বিনোদন

এআই নিয়ে ভয় কৃতি শ্যাননের, আইন পরিবর্তনের তাগিদ

আপডেট: অক্টো ২৪, ২০২৬ : ০৬:০৯ এএম ১ ০
এআই নিয়ে ভয় কৃতি শ্যাননের, আইন পরিবর্তনের তাগিদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ও আসল ছবির মধ্যে পার্থক্য করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ছবি অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনকেও যুগোপযোগী করা জরুরি।

সম্প্রতি এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এ অংশ নিয়ে ‘দ্য মেকিং অব আ মডার্ন স্টার’ শীর্ষক আলোচনায় এআই নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এআই আমাকে ভয় দেখায়। আমার মনে হয়, অনেকেই এতে ভয় পান। তবে আমি মনে করি, এটি একটি হাতিয়ার, গন্তব্য নয়। বিষয়টি হলো, এটি খুব ধারালো হাতিয়ারের মতো। আর হাতিয়ার যত ধারালো হয়, সেটি তত বিপজ্জনক হতে পারে।’

প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন উদ্ভাবনের পক্ষে থাকলেও কৃতি মনে করেন, এর সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তি এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনকেও এগিয়ে যেতে হবে। এআই দিয়ে কী কী করা সম্ভব এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় সমাজ কতটা প্রস্তুত, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

কৃতি বলেন, ‘আমি প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের পক্ষে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সঙ্গে আইনকেও এগিয়ে যেতে হবে। এআই দিয়ে আসলে কী কী করা সম্ভব, তার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, তা জানি না। ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভীতিকর। অনলাইনে যা দেখা যায়, তা সত্যিই ভয় পাওয়ার মতো।’

আসল ও কৃত্রিম ছবির পার্থক্য করা কঠিন

এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি এখন অনেক ক্ষেত্রেই আসল ছবির মতো দেখায়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তির ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা বিকৃত করে উপস্থাপনের ঝুঁকিও বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কৃতি বলেন, আসল ছবি ও এআই দিয়ে তৈরি ছবির পার্থক্য এখন খুবই সামান্য। ভবিষ্যতে এআই কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে আইন প্রণয়ন জরুরি।

ছবি অপসারণে প্রতিবেদন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি বা বিকৃত ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হওয়া দরকার বলে মনে করেন কৃতি। এ প্রসঙ্গে ইনস্টাগ্রামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে নিজের এআই-নির্মিত ছবি রিপোর্ট করার জন্য নির্দিষ্ট বিকল্পের অভাব রয়েছে।

কৃতির ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, ইনস্টাগ্রামে আমি যদি কোনো কিছু রিপোর্ট করতে চাই, সেখানে এমন কোনো বিকল্প নেই, যেখানে বলা যাবে, “এটি এআই দিয়ে তৈরি আমার ছবি, তাই এটি রিপোর্ট করে সরিয়ে দেওয়া উচিত।” প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এখনো তত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারছি না।’

কৃতির বক্তব্যে স্পষ্ট, এআইয়ের অগ্রগতিকে তিনি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করছেন না। বরং প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষা, ছবি অপব্যবহার রোধ এবং কার্যকর অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!