আন্তর্জাতিক

ইবোলার টিকা আসতে আরও ৯ মাস লাগতে পারে: ডব্লিউএইচও

আপডেট: মে ২১, ২০২৬ : ০৪:৩৮ এএম
ইবোলার টিকা আসতে আরও ৯ মাস লাগতে পারে: ডব্লিউএইচও

প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ ইবোলার নতুন টিকা বাজারে আসতে আরও প্রায় ৯ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বুধবার (২০ মে) জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি বলেন, ইবোলা ভাইরাসের বুন্ডিবুগিও প্রজাতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য দুটি টিকার উন্নয়নকাজ চলছে। তবে সেগুলো এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে পৌঁছেনি।

তিনি বলেন, টিকা তৈরি ও পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় নয় মাস সময় লাগতে পারে। বর্তমানে মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এ পর্যন্ত ইবোলার উপসর্গ নিয়ে ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও প্রায় ৬০০ জনের মধ্যে সংক্রমণের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

ড. ভাসি মূর্তি জানান, কঙ্গোতে উপসর্গ দেখা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৫১ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও দুজন আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ডব্লিউএইচও জানায়, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও উত্তর কিভু প্রদেশে আক্রান্তদের বেশিরভাগের অবস্থান। অন্যদিকে উগান্ডার আক্রান্ত দুজন রাজধানী কাম্পালার বাসিন্দা।

ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে কেন্দ্র করে গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেনি।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেন, “কঙ্গোতে পরিস্থিতি আঞ্চলিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হলেও এটি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে উন্নীত হয়নি।”

প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ২ কোটি পাউন্ড অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই অর্থ স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা, নজরদারি ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা অত্যন্ত প্রাণঘাতী একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর শরীরের তরলের সংস্পর্শে এলে এটি ছড়াতে পারে। রোগটির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, দুর্বলতা, বমি, ডায়রিয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে কিছু এলাকায় মৃত্যুহার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!