আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান

আপডেট: জুন ০২, ২০২৬ : ০৫:৪৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি হলে ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০ হাজার কোটি ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যদি ভবিষ্যতে কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে দেশটির যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে এই অর্থ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই তহবিলে অর্থ দেবে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ।

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এই বিরোধের জেরে গত দুই দশকে ইরানের ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ইরানে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ১২ দিনব্যাপী ওই সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে টানা ৪০ দিনের লড়াইয়ের পর ৭ এপ্রিল আবারও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এই সময়ের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার অঙ্গীকার, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর।

বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলে তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পণ্য এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান উল্লিখিত শর্তগুলো মেনে নিলেই কেবল ক্ষতিপূরণ তহবিল ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এগোবে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!