ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। হামলায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া একযোগে ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৬৫৬টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আকাশ হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও কিছু হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেটির বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪২ জন।
রাজধানী কিয়েভেও হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
হামলার সময় কিয়েভজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন যে রাশিয়া বড় ধরনের নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাম্প্রতিক এ হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়ে যে সামান্য আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, তাতেও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে হামলা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!