আন্তর্জাতিক

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৫:২৯ এএম
ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি উদ্যোক্তা রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্ক ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তুলতে এ বিনিয়োগ করা হবে।

বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রবিন খুদা। সাক্ষাতের পরই এয়ারট্রাঙ্ক ভারতের প্রযুক্তি খাতে তাদের বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতজুড়ে মোট ৫ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডাটা সেন্টার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হবে মহারাষ্ট্রে। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস জানিয়েছেন, মহারাষ্ট্রে ৩ গিগাওয়াট সক্ষমতার ডাটা সেন্টার স্থাপন করবে এয়ারট্রাঙ্ক। এ লক্ষ্যে মুম্বাইয়ের রায়গড়ে জমি কেনার চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ বৈশ্বিক ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

রবিন খুদার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তিনি রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর সরকারি বয়েজ স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান এবং পরে প্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের একজন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

ফোর্বস এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিন খুদা বলেন, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি বাজারের মধ্যে ভারত অন্যতম, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তি বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ভারতের জনসংখ্যা, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এই তিনের সমন্বয় বিশ্বে বিরল।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক বর্তমানে ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ডাটা সেন্টার অবকাঠামো সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: ফোর্বস

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!