আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট: জুন ১২, ২০২৬ : ০৬:৪০ এএম
দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় সামরিক ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারির জন্য পরিস্থিতি তৈরি করতে ইউন উত্তর কোরিয়ার দিকে ড্রোন অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন বা এতে সম্পৃক্ত ছিলেন। ওই ড্রোনগুলো থেকে প্রোপাগান্ডা লিফলেট ছড়ানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের এক মুখপাত্র বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, ড্রোন-সংক্রান্ত অভিযোগে ইউন সুক ইয়লকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ের বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে আদালতে ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ‘কৃত্রিমভাবে যুদ্ধাবস্থা তৈরি করার চেষ্টা’ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ইউন সুক ইয়ল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পৃথক এক মামলায় সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

সাংবিধানিক আদালতের রায়ে অভিশংসন বহাল থাকায় গত বছর তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হন। পরে আগাম নির্বাচনে উদারপন্থি নেতা লি জে মিয়ং দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

আইনজীবীদের দাবি, ইউন কখনও ড্রোন অভিযানের নির্দেশ দেননি এবং এটি সামরিক আইন ঘোষণার অংশও ছিল না। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো বেলুন অভিযানের জবাবে ওই কার্যক্রম চালানো হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেন।

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!