আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘোষণা, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত

আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬ : ০৪:৪৪ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘোষণা, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসানের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে’ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান প্রথমে এই চুক্তির ঘোষণা দেয়। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানও বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

রোববার নিজের ৮০তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের অতিরিক্ত ফি ও বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের সব জাহাজ আবার চলাচল শুরু করুক। তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।’

যুদ্ধের অবসানের ঘোষণা

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের ‘তাৎক্ষণিক অবসান’ ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, চুক্তির বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করতে আগামী দুই মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ নতুন করে আলোচনায় বসবে।

উত্তেজনার মধ্যেও সমঝোতা

চুক্তির আগে বৈরুতের উপকণ্ঠে ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। ওই হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তেহরান। এতে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

শাহবাজ শরীফ এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সূত্র: এএফপি, বাসস।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!