আন্তর্জাতিক

দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ: এরদোয়ান

আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬ : ০৬:০৮ এএম
দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ: এরদোয়ান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ফিলিস্তিন প্রশ্নে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান। তাঁর মতে, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরবে না।

সোমবার আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এরদোয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মূল কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু। ইসরায়েলের ভূমি দখল ও বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। এ সংকট সমাধানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চল এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। ন্যাটোর পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, অভিবাসন সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জোটকে নিরাপত্তা কৌশল নতুনভাবে সাজাতে হচ্ছে।

তাঁর ভাষায়, বিশ্বের প্রচলিত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো দ্রুত বদলে যাচ্ছে। পুরোনো ধারণাগুলো ভেঙে পড়লেও নতুন কোনো কার্যকর বৈশ্বিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়ছে।

গাজা ও লেবাননের পরিস্থিতির উল্লেখ করে এরদোয়ান বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু মানবতার বিবেককেই নাড়া দেয়নি, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জোটের প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং সদস্যদের মধ্যে সংহতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি টেক্সাস থেকে আঙ্কারা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এরদোয়ান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোয়, সে লক্ষ্যে তুরস্ক পাকিস্তান, কাতারসহ মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ অঞ্চলের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ওপরও নিবিড় নজর রাখছে আঙ্কারা।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়—এমন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এ ধরনের গোষ্ঠীগুলো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাকে নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!