আন্তর্জাতিক

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতি পাকিস্তানের কড়া বার্তা

আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬ : ০৬:১০ এএম
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতি পাকিস্তানের কড়া বার্তা

সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইসলামাবাদ। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, পাকিস্তানের পানির অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে বলেন, দেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে এই পানি সরাসরি জড়িত। তাই পাকিস্তান তার প্রাপ্য পানির অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করতে দেবে না।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্য কোনো দেশ যদি পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে চায়, সেটি মেনে নেওয়া হবে না।

ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে প্রাপ্য পানির ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান নিজেদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী উজান থেকে ভাটিতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকে। সেখানে সিন্ধু নদব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বিদ্যমান। সে অবস্থায় পানি আটকে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসাদিক মালিকের বক্তব্য প্রচারিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে। তাঁর দাবি, এ চুক্তি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তাই সিন্ধু নদব্যবস্থার পানির ওপর পাকিস্তানের অধিকার আন্তর্জাতিক আইনেও স্বীকৃত।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, পানি পাকিস্তানের ‘লাইফলাইন’ এবং একই সঙ্গে ‘রেডলাইন’।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থায় ভারতের প্রাপ্য পানির পুরো অংশ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের জন্য বরাদ্দ কোনো পানিই পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলোর পানিবণ্টন ও ব্যবহার পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৫ সালে পহেলগামে হামলার পর ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!