ক্রমহ্রাসমান জন্মহার মোকাবিলায় মা ও বাবা—উভয়ের জন্য সবেতন অভিভাবকত্বকালীন ছুটির পরিধি বাড়িয়েছে ফ্রান্স। নতুন এ ব্যবস্থা বুধবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ২০২৪ সালে জন্মহার বৃদ্ধি ও বন্ধ্যত্বজনিত সংকট মোকাবিলায় যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন, এটি তারই অংশ। সে সময় তিনি এ উদ্যোগকে ফ্রান্সের ‘জনসংখ্যাগত পুনরুত্থান’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এতদিন দেশটিতে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে মায়েরা প্রায় চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং বাবারা সন্তানের জন্মের পর ২৮ দিনের পিতৃত্বকালীন ছুটি পেতেন।
নতুন বিধান অনুযায়ী, বিদ্যমান ছুটির পাশাপাশি মা ও বাবা নিজেদের মধ্যে অতিরিক্ত এক থেকে দুই মাসের ছুটি ভাগ করে নিতে পারবেন। এ সময় প্রথম মাসে তারা নেট বেতনের ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় মাসে ৬০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।
নতুন সুবিধা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পর জন্ম নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। দত্তক নেওয়া সন্তানের অভিভাবকরাও এ সুবিধার আওতায় থাকবেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের মতো ফ্রান্সেও জন্মহার কমছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে কম ছিল।
তবে নারীবাদী সংগঠনগুলো বলছে, নতুন এ সংস্কার লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, তুলনামূলক কম আয়ের সঙ্গী—যিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী—অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকায় বৈষম্য পুরোপুরি দূর হবে না।
সূত্র: এএফপি
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!