আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যোগাযোগ চ্যানেল চালুতে সম্মত, কাতার সংলাপ শেষ

আপডেট: জুলা ০২, ২০২৬ : ০৬:০৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যোগাযোগ চ্যানেল চালুতে সম্মত, কাতার সংলাপ শেষ

কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সংলাপে নিজেদের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির কোনো শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে দ্রুত যোগাযোগ ও সংকট নিরসনের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হবে।

বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই কাতারে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সংলাপ শেষ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তির কোনো ধারা নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে উভয় পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই যোগাযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা করতে পারবে।

দীর্ঘ সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত প্রায় ৪০ দিন স্থায়ী হয়। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

পরে মে মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি সমঝোতা প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠায়। প্রায় এক মাস পর ১৫ জুন তাতে সম্মতি জানায় তেহরান। এরপর ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং বিদেশে জব্দ থাকা দেশটির কিছু অর্থ ছাড়ের বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ওই নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় করবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!