আন্তর্জাতিক

৬৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনতে যাচ্ছে ভারত

আপডেট: জুলা ০৪, ২০২৬ : ০৫:৩৩ এএম
৬৩০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনতে যাচ্ছে ভারত

ভারত সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে নতুন সামরিক সরঞ্জাম কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। শুক্রবার দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।

সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি) এই অনুমোদন দিয়েছে। পরিষদে দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন। তবে এসব সরঞ্জাম কবে কেনা হবে কিংবা দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে নাকি বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

পরিকল্পনার আওতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন কেনা হবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর জন্য নতুন ধরনের নৌ-মাইন ও জাহাজ থেকে পরিচালিত ড্রোন সংগ্রহেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সমুদ্র প্রতিরক্ষা ও নজরদারি জোরদারে একটি বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর জন্য দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে উড়তে সক্ষম একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ (ইউএভি) সংগ্রহ করা হবে, যা গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে।

গত এক দশকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমানোর নীতি অনুসরণ করছে ভারত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করেছে নয়াদিল্লি।

বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতা দেশটির সামরিক আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিও নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগের অন্যতম কারণ।

এর আগে গত ডিসেম্বরে অন্তত ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ ও সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করে ভারত। চলতি বছরের শুরুতেও প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দিয়েছিল দেশটি, যার মধ্যে ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সিদ্ধান্তও ছিল।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!