আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি প্রায় ৩ হাজার, এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ

আপডেট: জুলা ০৫, ২০২৬ : ০৫:৫২ এএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানি প্রায় ৩ হাজার, এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। দেশটির সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ জনে। এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সম্ভাবনা কমে আসায় উদ্ধার অভিযানও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের পর শুক্রবারের তুলনায় মৃতের সংখ্যা আরও তিন শতাধিক বেড়েছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জাতিসংঘ জানিয়েছে, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন সূত্রে অন্তত ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্যও উঠে এসেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে বহু বহুতল আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।

ভূমিকম্পের ১০ দিন পর উদ্ধারকারীরা ধীরে ধীরে অভিযান গুটিয়ে নিচ্ছেন। যদিও কয়েক দিন আগেও ধ্বংসস্তূপ থেকে অল্প কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাকেই জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উদ্ধার অভিযান সমাপ্তির পথে—এমন ইঙ্গিত দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্য ও তাদের অনুসন্ধানী কুকুরদের সম্মাননা প্রদান করেছেন।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জনগণের জন্য গভীর শোকের সময়। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করছে। অনেক মানুষ সবকিছু হারিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ এবং দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে নিজ দেশে ফিরতে শুরু করেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শেষ অনুসন্ধানেও জীবিত কারও সন্ধান না মেলায় তারা অভিযান শেষ করছে। ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার উদ্ধারকারী দলও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের পরপরই সরকার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ফলে অনেক পরিবার প্রথম কয়েক ঘণ্টা নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের খোঁজার চেষ্টা করেছে। তবে সরকারের দাবি, শুরু থেকেই হাজার হাজার সেনাসদস্য ও উদ্ধারকর্মী মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে লা গুয়াইরায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে অনেক পরিবার এখনও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও কাজ করছি। এখনও মরদেহ খুঁজে বের করছি। কাজটি সহজ নয়। আজও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি।’

জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকা দেশটির জন্য এই দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরার মাইয়াকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও। মানবিক সহায়তাবাহী উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি আংশিক চালু করা হলেও বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!