আন্তর্জাতিক

ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন-জেলেনস্কির আলাদা ফোনালাপ

আপডেট: জুলা ০৫, ২০২৬ : ০৬:০৭ এএম
ন্যাটো সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিন-জেলেনস্কির আলাদা ফোনালাপ

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আসন্ন ন্যাটো সম্মেলন—এসব বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। খবর এএফপির।

ক্রেমলিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই দফা ফোনালাপ হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তির বরাতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে প্রায় ৮৫ মিনিট কথা হয়। আলোচনায় ইউক্রেন সংকটের সম্ভাব্য শান্তিপূর্ণ সমাধান, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আগামী ৭–৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলন নিয়ে মতবিনিময় হয়।

উশাকভের ভাষ্য, পুতিন ট্রাম্পকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দাবি করেন, রুশ বাহিনী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করেন।

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তিনি মনে করেন, যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে এ আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় নেতা একমত হয়েছেন।

আগামী মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পসহ জোটভুক্ত ৩২টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রাশিয়া অগ্রগতির দাবি করলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্মুখসমরে বড় ধরনের সাফল্যের প্রমাণ মেলেনি। বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোননির্ভর যুদ্ধের বিস্তারের কারণে উভয় পক্ষই উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং স্থলযুদ্ধে অগ্রগতি সীমিত হয়ে পড়েছে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও অচলাবস্থা কাটেনি। মস্কো এখনো দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে কিয়েভ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ফলে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!