আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত’ করতে ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আপডেট: জুলা ০৯, ২০২৬ : ০৬:২২ এএম
হরমুজ প্রণালিকে ‘মুক্ত’ করতে ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাতে চালানো এ হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তিন সমুদ্রবন্দর—বন্দর আব্বাস, কোনারক ও চাবাহার—ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরসংলগ্ন এলাকায় ইরানের নৌবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর একাধিক সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

হামলায় চাবাহার বন্দরের আশপাশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দর এবং উত্তরাঞ্চলের আক্কালা শহরের একটি রেলসেতুতেও আঘাত হানা হয়। ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার প্রথম দফায় দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় ৮০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায় আইআরজিসি।

এই উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার তুরস্কের আঙ্কারায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় দফার হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার প্রতি ইরানের হুমকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবারের হামলার ব্যাপ্তি ও তীব্রতা ছিল বেশি।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের আগ্রাসন হলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

সূত্র: রয়টার্স

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!