ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়া বা রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন আগের চেয়ে বেশি আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১ আগস্ট থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকা (ইইএ) ও সুইজারল্যান্ডের বাইরের শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ন্যূনতম ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে।
গত ২২ জুন জারি করা এক ডিক্রিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালের বাজেট আইনের অংশ হিসেবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক শর্ত পরিবর্তন করছে।
এর আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ৬১৫ ইউরো আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হতো। নতুন নিয়মে তা বেড়ে ৮৭৭ দশমিক ৫০ ইউরো করা হয়েছে।
ডিক্রি অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ স্থায়ী নয়। ভবিষ্যতে ফ্রান্সের ন্যূনতম মজুরি (স্মিক) বাড়লে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার সীমাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হবে।
বাড়ছে অন্যান্য খরচও
ফ্রান্সে অ-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ এটিই প্রথম নয়। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জন্য টিউশন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি সরকারের ‘চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি বৃত্তি না পাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের বিদেশি শিক্ষার্থীরা আবাসন সহায়তা (এপিএল) সুবিধা পাবেন না।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
ফরাসি সরকারের দাবি, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে আর্থিকভাবে সক্ষম ও সম্ভাবনাময় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা যাবে এবং ফরাসি ডিগ্রির মূল্য আরও বাড়বে।
তবে এসব সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গত মে মাসে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, নতুন নিয়মের কারণে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য ফ্রান্সে পড়াশোনার সুযোগ কঠিন হয়ে পড়বে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!