আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি

আপডেট: জুলা ২৩, ২০২৬ : ০৫:৫৭ এএম
ইউক্রেনের নতুন সেনাপ্রধান মিখাইলো দ্রাপাতি

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে ৪৩ বছর বয়সী মিখাইলো দ্রাপাতিকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দেশটির তরুণ সংস্কারপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আকস্মিকভাবে অপসারণের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগে ৬০ বছর বয়সী ওলেক্সান্দর সিরস্কির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন দ্রাপাতি। সামরিক কৌশলে দক্ষ হিসেবে পরিচিত হলেও সিরস্কি সোভিয়েতধারার নেতৃত্বের ধরন অনুসরণ এবং সেনাসদস্যদের প্রাণহানির বিষয়ে সংবেদনশীল না হওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন সমালোচনার মুখে ছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্রাপাতি স্বাধীনতা-পরবর্তী ইউক্রেনের সামরিক ব্যবস্থায় গড়ে ওঠা একজন পেশাদার কর্মকর্তা। লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ধাপে ধাপে তিনি নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৪ সালের যুদ্ধে পরিচিতি

২০১৪ সালে রাশিয়াসমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয়ভাবে পরিচিতি পান দ্রাপাতি। সে সময় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি সাঁজোয়া যুদ্ধযান চালিয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় মারিউপোলে মস্কোপন্থী বাহিনীর তৈরি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাচ্ছেন।

এক সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, চালক সামনে ব্যারিকেডের কথা জানালে তিনি শুধু বলেছিলেন, "গতি বাড়াও।" এরপর ইউক্রেনের নীল-হলুদ পতাকা বহনকারী যুদ্ধযানটি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যায়।

রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দখল থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ পুনর্দখল এবং নিজের ইউনিটকে অবরুদ্ধ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার কৃতিত্বও রয়েছে তার।

সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান

দ্রাপাতিকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ভেতরে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য একজন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাবেক সেনাপ্রধানকে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা প্রায়ই তাকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরতেন।

তবে প্রচারের আলো থেকে বরাবরই দূরে থেকেছেন তিনি। অন্য অনেক কমান্ডারের তুলনায় খুব কমই গণমাধ্যমে কথা বলেছেন।

২০২৫ সালের জুনে ইউক্রেনের সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক রুশ হামলার পর স্থলবাহিনীর কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন দ্রাপাতি। সে সময় তিনি ভুলের দায় স্বীকার করে বলেন, "আমরা যদি শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হই, দায়িত্ব পালনের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না করি এবং নিজেদের ভুল স্বীকার না করি, তাহলে আমাদের পরিণতি হবে ধ্বংস।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, এই সিদ্ধান্ত দ্রাপাতির দৃঢ় নেতৃত্ব ও উচ্চ নৈতিক মানদণ্ডের পরিচায়ক।

পরে তাকে ইউক্রেনের যৌথ বাহিনীর কমান্ডের প্রধান করা হয়। সেখান থেকে তিনি সামরিক কাঠামোর সংস্কারে কাজ করেন।

‘সেনাবাহিনীর নতুন নিয়ম প্রয়োজন’

সম্প্রতি সংস্কারপন্থী প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভকে অপসারণের পর বিরল এক প্রকাশ্য বক্তব্যে দ্রাপাতি বলেন, সেনাবাহিনীর রূপান্তর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, "সঠিক সিদ্ধান্ত যদি ব্যবস্থার কারণে নয়, বরং ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে ব্যবস্থাটিরই পরিবর্তন প্রয়োজন।"

তার ভাষায়, "সেনাবাহিনীর নতুন নিয়ম প্রয়োজন।"

নিয়োগে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া

দ্রাপাতির নিয়োগকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীকে সহায়তাকারী অন্যতম বড় দাতব্য সংস্থার প্রধান সের্গেই প্রিতুলা একে "দারুণ খবর" বলে মন্তব্য করেছেন।

অপসারিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই নিয়োগ স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে "নতুন আশার প্রতীক"।

তবে মস্কোর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ইউক্রেনের সেনাপ্রধান পরিবর্তনে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে না।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!