যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হবে কেবল তখনই, যখন দেশটি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেবে। চুক্তি ঘোষণার একদিন পর তাঁর এ মন্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে হওয়া চুক্তির অনুমোদন নির্ভর করবে দেশটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয় কি না, তার ওপর।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট রূপরেখার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর রিয়াদের এ অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে।
বুধবার ঘোষিত বেসামরিক পরমাণু চুক্তিকে সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিল। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া এই চুক্তির একটি পূর্বশর্ত ছিল এবং সৌদি আরব বিষয়টি আগে থেকেই জানত। যদিও চুক্তি ঘোষণার সময় এ শর্তের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের। তিনি জানান, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, সৌদি আরব যদি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ‘ঐতিহাসিক অগ্রগতি’ হবে।
চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরবে বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচি গড়ে তুলতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে ট্রাম্পের নতুন শর্তের কারণে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!