সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঠেকাতে সড়ক নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রায়েদ আল সালেহর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সরকারি সেবাখাতের ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে অধিকাংশ সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি।
সিরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এর আগে ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসে অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও অবকাঠামোর অবনতির কারণে সিরিয়ায় সড়ক নিরাপত্তা এখনো বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!