ভারতে বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঠেকাতে কঠোর আইন পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। নতুন আইনে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ১০ লাখ ডলারের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিলটি একদিন আগে লোকসভায় পাস হওয়ার পর দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাজ্যসভাও কণ্ঠভোটে এটি অনুমোদন দেয়। এখন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের পর এটি আইনে পরিণত হবে।
রাজ্যসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, প্রশ্নফাঁস শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, দেশের প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োজন।
সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলে বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে একটি জাতীয় মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ওই ঘটনাকে ঘিরেই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়।
গত ২০ জুলাই নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ের ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুনরাবৃত্তি বন্ধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ কার্যকর না হওয়ায় এবার কঠোর শাস্তির বিধান এনে আইন সংশোধনের পথে হাঁটল ভারত।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!