মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুত একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন হামলার খবরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, তেহরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নতুন হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। সেই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত একটি চুক্তি সম্ভব হলে আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত হুমকির অবসান ঘটাতে হবে। ট্রাম্পের দাবি, এ সিদ্ধান্তে ইসরায়েলও সম্মত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছিল। তবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের অনুরোধের পর ওয়াশিংটন আপাতত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোও শনিবার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত এলাকা ত্যাগের প্রস্তুতি রাখতে বলেছে।
এরই মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের দামও আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর ভাষ্য, তেহরান এখন পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি–সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের এখনো পাল্টা ক্ষয়ক্ষতি করার সক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের প্রক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত এবং মিশরের একটি বন্দরে মার্কিন মালিকানাধীন গ্যাসবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!