আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও ফলে আগ্রহ চীনের ব্যবসায়ীদের

আপডেট: আগ ২৩, ২০২৬ : ০৫:৪২ এএম ১২
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য ও ফলে আগ্রহ চীনের ব্যবসায়ীদের

চীনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ফল ও কৃষিপণ্য উৎসবে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে স্থানীয় দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

কুনমিংয়ের হ্যালো ওয়ার্ল্ড লিভিং মলে শুরু হয়েছে ২০২৬ মেকং-লানচাং ফল, কফি, ফুল ও বিয়ার কার্নিভ্যাল। ইউনান প্রদেশের বাণিজ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে মেকং অঞ্চলের দেশগুলোর ফল ও কৃষিপণ্য নিয়ে ৯৪টি স্টল বসেছে।

চীন, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, লাওস, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ড এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। প্রতিটি দেশ তাদের বিভিন্ন ধরনের ফল, কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছে।

এ আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্টলে প্রদর্শিত ফল ও কৃষিপণ্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে চীনের বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চীনের বাজারে কাঁঠাল, আমের পর পেয়ারা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্য বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, গত বছরের ফল উৎসবের পর বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে ‘থ্রি ফ্রিস অ্যান্ড থ্রি ফ্যাসিলিটেশনস’ নীতির আওতায় সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এর ফলে চীনের বাজারে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

শাহনাজ রানু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিধি প্রটোকল স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বাংলাদেশের আম ইতিমধ্যে চীনের বাজারে প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পেয়ারা ও অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলও চীনে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের তাজা কৃষিপণ্যের জন্য ইউনানকে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের কৃষি বাণিজ্য আরও বাড়ানো সম্ভব।

২৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে উৎসব

‘বড় বাজার ভাগাভাগি, চীনে রপ্তানি’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেকং-লানচাং অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং কৃষি ও বাণিজ্য খাতের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে লানচাং-মেকং উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক লিউ জি, কুনমিংয়ে নিযুক্ত কম্বোডিয়ার কনসাল জেনারেল হেং পিসাল, থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক প্রতিনিধি চ্যানউইট রুয়াংচাইথাওয়েসুক, ভিয়েতনামের কনসাল জেনারেল নঘিয়েম ভিয়েত চুং এবং ইউনান প্রদেশের কৃষি ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগের প্রধান কৃষিবিদ কে বিন বক্তব্য দেন।

উদ্বোধন শেষে অতিথিরা বিভিন্ন দেশের স্টল ঘুরে দেখেন। আয়োজকেরা আশা করছেন, এ উৎসব অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং কৃষিভিত্তিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

কুনমিংয়ে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত। উৎসবে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন দেশের ফল, কৃষিপণ্য, কফি, ফুল ও অন্যান্য পণ্য দেখার পাশাপাশি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!