আর্জেন্টিনায় গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ১৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। এতে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কিছুটা স্বস্তি পেলেও বেকারত্ব বাড়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা কমছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবর অনুযায়ী, জাতীয় পরিসংখ্যান ও আদমশুমারি প্রতিষ্ঠান (ইনডেক) জানিয়েছে, আগস্টে মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতি ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। আর গত ১২ মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশে।
কমেছে মূল্যস্ফীতি, বেড়েছে বেকারত্ব
মুক্তবাজারভিত্তিক কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কারের পক্ষে পরিচিত অর্থনীতিবিদ হাভিয়ের মিলেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। দেশটির দুর্বল অর্থনীতি ঘুরে দাঁড় করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
মিলেই ক্ষমতায় আসার সময় আর্জেন্টিনায় মূল্যস্ফীতি ছিল তিন অঙ্কের ঘরে। কঠোর সরকারি ব্যয় সংকোচন ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হন তিনি।
তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজেট ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের উজ্জ্বলতা এখন কিছুটা ম্লান হয়ে পড়ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়েছে, শিল্প উৎপাদন কমেছে এবং তাঁর শাসনামলে বেসরকারি খাতে ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।
জনমত জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে এখন মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেকারত্ব বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
তিন বছরে বন্ধ ৩০ হাজার কোম্পানি
শিল্প খাতের নেতারা বলছেন, কয়েক দশকের সুরক্ষাবাদী অর্থনৈতিক নীতি একসঙ্গে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আর্জেন্টিনার শিল্প খাত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মুখে দুর্বল অবস্থানে পড়েছে।
গত তিন বছরে দেশটিতে প্রায় ৩০ হাজার কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে। সরকারের বাজেটে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন পূর্বাভাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!