আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা, ব্রেন্টের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার

আপডেট: সেপ্টে ১৪, ২০২৬ : ০৫:৩২ এএম
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় তেল সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা, ব্রেন্টের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নভেম্বর সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৫৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের প্রধান সূচক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) অক্টোবর সরবরাহের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ৩৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। সোমবারও সেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ

বিশ্ববাজারের নজর এখন মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে দেশটির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে রোববার হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।

যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বর্তমানে ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে আগে অনুমতি নেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রণালী ব্যবহারের জন্য সার্ভিস ফি বা মাশুল চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে দেশটি।

ইরানের এই শর্ত না মানা জাহাজগুলো নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করতে যুক্তরাষ্ট্রও সময় সময় ইরানের উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার কথা থাকলেও ওমান সেই আলোচনা পিছিয়ে দিয়েছে।

তেলের বাজারে বড় প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিপুল পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!