যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই বরখাস্ত হয়েছেন কেটি জাচারিয়া। শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা তাঁর দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা এবং আইনজীবী হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জাচারিয়া। বিশেষ করে তাঁর আইনি যোগ্যতা এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার ধরন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তাঁর বিদায়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মুখপাত্রকে হারাল ট্রাম্প প্রশাসন।
জাচারিয়াকে দায়িত্ব পুনর্বিবেচনার পরামর্শ ট্রাম্পের
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, সংবাদমাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি জাচারিয়াকে দায়িত্ব নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাকে বলেছি, আমার মনে হয় তুমি সুখী হতে চাও। আমি নিশ্চিত নই, এ ধরনের দায়িত্বে তুমি সুখী হতে পারবে কি না। আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতাম।’
এদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর কোনো তাড়া নেই।
আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
গত ১২ অক্টোবর সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেন কেটি জাচারিয়া। পরদিন মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁর আইন পেশায় যুক্ত থাকার দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ট্রাম্পও তাঁকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
বুধবার ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাচারিয়া বলেন, তিনি যথাযথ যোগ্যতা নিয়েই আন্তর্জাতিক লেনদেনবিষয়ক আইন চর্চা করেছেন।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য কিংবা ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন বা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন—এমন প্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেই আইন পেশায় কাজ করার অনুমতি পাওয়া যায় না; সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনে সদস্যপদ বা অনুমোদন পেতে হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইল করা হলেও জাচারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্য
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর প্রশাসন নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রশাসনের অর্জনগুলো আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন—এমন একজন মুখপাত্র খুঁজছিলেন তিনি। সেই ভাবনা থেকেই জাচারিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের জাচারিয়া বলেছিলেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন।
সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে থাকার রেকর্ড?
জাচারিয়ার দ্রুত বিদায়ে ট্রাম্প প্রশাসনে স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনের নজির নিয়ে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এত দিন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনে সবচেয়ে কম সময় দায়িত্বে থাকার রেকর্ডটি ছিল তাঁর।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাচারিয়ার বিদায়ের প্রসঙ্গ টেনে স্কারামুচি লিখেছিলেন, ‘রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই তৈরি। তবে অন্যের কষ্টে আমি কোনো আনন্দ পাই না।’
সূত্র: রয়টার্স
No comments yet. Be the first to comment!