কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধই এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে তেহরানে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আরাকচি। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরাকচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী (ইসরাইল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।’
তিনি উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।
তেহরানে ল্যাভরভ, মধ্যস্থতার উদ্যোগ মস্কোর
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরানে পৌঁছেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে মস্কো।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী রোববার জানান, ল্যাভরভের সফরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে ল্যাভরভের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এর আগে ল্যাভরভ বলেছিলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মস্কোর উদ্যোগের লক্ষ্য বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত মস্কো। এর পরই ল্যাভরভের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাশিয়া-ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
রাশিয়া ও ইরান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দেশ দুটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ল্যাভরভের সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট’ নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয়টি আরও বলেছে, এ যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে শত্রুতা বন্ধ হয়নি।
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বন পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়।
ইরানের অনুমোদন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা জাহাজগুলোকে দেশটি নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ঘিরে চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!