দেশে ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের অর্থমূল্য বেড়েছে ১০৩ শতাংশ। একই সময়ে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্ডভিত্তিক লেনদেনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে বিদেশে ৯৮৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন বাংলাদেশিরা। একই সময়ে বিদেশে ইস্যু করা কার্ড দিয়ে বাংলাদেশে লেনদেন হয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে ব্যয় দেশে বিদেশিদের কার্ডে ব্যয়ের প্রায় চার গুণ।
কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৭০ লাখ। চলতি বছরের আগস্ট শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখে।
এই পাঁচ বছরে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৬৯ শতাংশ, ক্রেডিট কার্ড ৫৯ শতাংশ এবং প্রিপেইড কার্ড ৮০৩ শতাংশ। বিশেষ করে প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কার্ডের মাধ্যমে মাসিক লেনদেনের অর্থমূল্যও বেড়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। চলতি বছরের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায়।
দেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে
কার্ডের ব্যবহার বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের মাস জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসে ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে, ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে মোট ব্যয়ের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ হয়েছে এ খাতে।
এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৫১৮ কোটি, পরিষেবা বিল পরিশোধে ৪৪২ কোটি, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ২৮৪ কোটি এবং পোশাকের দোকানে ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন গ্রাহকেরা।
বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যয় কমেছে
গত আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিদেশে ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। জুলাইয়ে এ ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫২৬ কোটি টাকা।
এ সময়ে বিদেশে ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে দেশটিতে। এরপর থাইল্যান্ডে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভারতে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
বাংলাদেশে বিদেশি কার্ডের লেনদেন বেড়েছে
বাংলাদেশে বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের ব্যবহারও বেড়েছে। গত আগস্টে এসব কার্ড দিয়ে দেশে ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। জুলাইয়ে এ পরিমাণ ছিল ২৩৪ কোটি টাকা। এক মাসে লেনদেন বেড়েছে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বিদেশি কার্ড দিয়ে বাংলাদেশে হওয়া ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ, ৩৫ দশমিক ২৫ শতাংশ, হয়েছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে দেশে ক্রেডিট কার্ডের অনুমোদিত ঋণসীমা ছিল ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। কার্ড ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা ছিল ১৪ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা।
নগদবিহীন লেনদেনে চ্যালেঞ্জ
ব্যাংক কার্ডের ব্যবহার বাড়লেও নগদবিহীন লেনদেনের প্রসারে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতি এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে দেশে নগদবিহীন লেনদেনের বিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে গত পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেনের অর্থমূল্য বৃদ্ধির চিত্র দেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়ার প্রবণতাই তুলে ধরছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!