বৈশাখের তীব্র গরমে দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় অনেকেই পানিশূন্যতায় ভুগছেন। অনেক সময় এই পানিশূন্যতা নীরবে তৈরি হয়, যা দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ উপায়ে ঘরে বসেই শরীরে পানিশূন্যতার প্রাথমিক লক্ষণ বোঝা সম্ভব।
ত্বক চিমটি দিয়ে পরীক্ষা
হাতের তালুর পেছনের ত্বক বা বাহুতে হালকা চিমটি দিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে ছেড়ে দিন। ত্বক দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে এলে পানির পরিমাণ স্বাভাবিক ধরা হয়। তবে ত্বক ভাঁজ হয়ে কিছুক্ষণ থাকলে পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে।
নখে চাপ দিয়ে দেখা
হাতের নখে চাপ দিলে তা সাদা হয়ে যায়। চাপ ছেড়ে দিলে যদি দ্রুত (এক থেকে দুই সেকেন্ডের মধ্যে) স্বাভাবিক রঙে ফিরে আসে, তবে শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক আছে। দেরি হলে তা পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবের রঙ পর্যবেক্ষণ
প্রস্রাবের রঙ শরীরের পানির অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। হালকা হলুদ রঙ স্বাভাবিক, গাঢ় হলুদ পানির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। আর খুব গাঢ় বা বাদামি রঙ হলে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
মুখের আর্দ্রতা
মুখের ভেতর স্বাভাবিক অবস্থায় আর্দ্র থাকে। মুখ শুকনো লাগা, লালা ঘন হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ পানিশূন্যতার দিকে ইঙ্গিত করে।
পালস রেট পরীক্ষা
শুয়ে এক মিনিট পালস মাপার পর দাঁড়িয়ে আবার মাপুন। স্বাভাবিকভাবে কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে যদি ১৫–২০ বিটের বেশি বেড়ে যায় বা মাথা ঘোরে, তা পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, এসব পদ্ধতি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। তবে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, শরীরের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হওয়া বা পানি পান করতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!