লাইফস্টাইল

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ডিমের কুসুম কি বাদ দিতে হবে?

আপডেট: মে ২০, ২০২৬ : ০৬:১৪ এএম ১৩
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ডিমের কুসুম কি বাদ দিতে হবে?

ডিমকে সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারের একটি হিসেবে ধরা হয়। তবে কোলেস্টেরল নিয়ে সচেতন মানুষের মধ্যে প্রায়ই একটি প্রশ্ন উঠে আসে—ডিমের কুসুম কি খাওয়া উচিত, নাকি এড়িয়ে চলা ভালো?

বিশেষ করে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ডিমের কুসুম নিয়ে দ্বিধা আরও বেশি দেখা যায়। কারণ ধারণা প্রচলিত আছে, কুসুম রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে বলে জানান পুষ্টিবিদরা। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত কোলেস্টেরল গ্রহণ করতে পারেন। সে হিসেবে অনেকেই মনে করেন, ডিমের কুসুম নিয়মিত খেলে তা দ্রুত নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে পুষ্টিবিদদের মতে, খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল (ডায়েটারি কোলেস্টেরল) বেশিরভাগ মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ানোর প্রধান কারণ নয়। বরং স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবারই রক্তে কোলেস্টেরল বাড়াতে বেশি ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

সহজভাবে বললে, ডিমের মতো প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের চেয়ে প্রক্রিয়াজাত ও উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার বেশি ক্ষতিকর হতে পারে।

ডিমকে শুধু কোলেস্টেরলের উৎস হিসেবে না দেখে পুষ্টির ভান্ডার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এতে ভিটামিন এ, বি-কমপ্লেক্স (বি২, ফোলেট), সেলেনিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন গড়ে ২টি ডিমের কুসুম এবং ৪টি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। অন্যদিকে যাদের কোলেস্টেরল বেশি, তারা দিনে ১টি কুসুম ও ৪টি সাদা অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই—এমনকি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও—ডিমের কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য রাখা, স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!