লাইফস্টাইল

দুধ না ডিম—কোনটিতে বেশি প্রোটিন?

আপডেট: জুন ১১, ২০২৬ : ০৫:১৮ এএম
দুধ না ডিম—কোনটিতে বেশি প্রোটিন?

প্রোটিনের কথা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমে আসে দুধ ও ডিমের নাম। সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই দুই খাবারই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রশ্ন থাকে—প্রোটিনের দিক থেকে কোনটি বেশি উপকারী?

প্রোটিনের পরিমাণ কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বড় ডিমে প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে ২৫০ মিলিলিটার দুধে পাওয়া যায় প্রায় ৮ গ্রাম প্রোটিন। অর্থাৎ শুধুমাত্র প্রোটিনের পরিমাণ বিবেচনায় নিলে দুধ সামান্য এগিয়ে থাকলেও পার্থক্য খুব বেশি নয়।

দুধ ও ডিম—দুটিই “পূর্ণাঙ্গ প্রোটিন” হিসেবে বিবেচিত, কারণ এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড বিদ্যমান থাকে, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না।

দুধ ও ডিমের পুষ্টিগুণ

গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ ও ডিমের প্রোটিন শুধু পেশি গঠনে নয়, শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রাখে। দুধে থাকা কেসিন ও হোয়ি প্রোটিন হজমের সময় ভেঙে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেপটাইড তৈরি করে, যা কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে ডিম সহজপাচ্য প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত। এতে কোলিন, ভিটামিন বি১২ ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

কেন ডিম জনপ্রিয়?

কম খরচে সহজে রান্না করা যায় বলেই ডিম অনেকের প্রোটিনের প্রধান উৎস। দ্রুত শক্তি জোগানো এবং সহজে হজম হওয়ার কারণে এটি সকালের নাস্তায় বেশি জনপ্রিয়।

কেন দুধ আলাদা?

দুধে থাকা হোয়ি প্রোটিন দ্রুত শোষিত হয় এবং কেসিন ধীরে ধীরে শরীরে কাজ করে, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রোটিন সরবরাহ বজায় থাকে। পাশাপাশি এতে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি থাকে, যা হাড় ও পেশির স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে কোনটি খাবেন?

পুষ্টিবিদদের মতে, দুধ ও ডিম প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। প্রোটিনের চাহিদা পূরণ ও সামগ্রিক পুষ্টির জন্য উভয়কেই খাদ্যতালিকায় রাখা সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!