বিশেষজ্ঞদের মতে, মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করা শরীরের একটি স্বাভাবিক সংকেত। এ সময় শরীর জানিয়ে দেয় যে অন্ত্রে জমে থাকা বর্জ্য বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বারবার সেই সংকেত উপেক্ষা করলে মল বৃহদান্ত্রে (কোলন) দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। এতে মল থেকে আরও বেশি পানি শোষিত হয় এবং তা শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে মলত্যাগ কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠতে পারে।
২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত মল চেপে রাখলে মলদ্বার প্রসারিত হতে পারে এবং মল আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে মলত্যাগের স্বাভাবিক সংকেতের প্রতি কম সাড়া দিতে শুরু করে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের কার্যকারিতা হ্রাস এবং জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত পায়খানা চেপে রাখার কারণে কয়েকটি সাধারণ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্যান্য অন্ত্রজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিস্থিতিতে মাঝে মধ্যে মলত্যাগ বিলম্বিত করা সাধারণত বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না। তবে এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, বারবার শরীরের সংকেত উপেক্ষা করলে মলত্যাগের স্বাভাবিক অনুভূতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
হজমতন্ত্র সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন—
এসব অভ্যাস মলকে নরম রাখতে সাহায্য করে এবং স্বাভাবিক মলত্যাগ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে।
ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বা হঠাৎ মলত্যাগের অভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ কখনো কখনো আরও গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
No comments yet. Be the first to comment!