লাইফস্টাইল

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কি ক্ষতিকর? কী বলছে গবেষণা

আপডেট: জুলা ২১, ২০২৬ : ০৬:২৫ এএম
অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কি ক্ষতিকর? কী বলছে গবেষণা

শরীরের সুস্থতা, পেশি গঠন ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ উপকারী হলেও অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রোটিন শরীরের পেশি মেরামত, হরমোন উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনি, যকৃত, অন্ত্র ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

কিডনির ওপর বাড়তি চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত প্রোটিন বিপাকের ফলে উৎপন্ন বর্জ্য অপসারণে কিডনিকে বেশি কাজ করতে হয়। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় সমস্যা না হলেও, যাদের আগে থেকেই কিডনির রোগ রয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত প্রোটিন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

যকৃত ও হজমে প্রভাব

যকৃতের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন ভাঙতে সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের কারণে অনেক সময় ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া হয়। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রোটিনের উৎসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস ও চর্বিযুক্ত প্রাণীজ প্রোটিন খেলে শরীরে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

আইএসআরএন নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ওজন কমানো ও পেশি গঠনের জন্য উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য জনপ্রিয় হলেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক প্রোটিনের প্রস্তাবিত মাত্রা (আরডিএ) প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ০ দশমিক ৮ গ্রাম।

এতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে পারে। এর ফলে কিডনির মাধ্যমে বেশি ক্যালসিয়াম বের হয়ে যায় এবং হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গবেষণায় আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ করে লাল মাংসনির্ভর উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে কোলন, পাকস্থলী ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি লিভারের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রোটিন গ্রহণের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ব্যক্তির বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!