লাইফস্টাইল

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে? হতে পারে কোষীয় শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ

আপডেট: জুলা ২৩, ২০২৬ : ০৬:২১ এএম
সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে? হতে পারে কোষীয় শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ

ব্যস্ততা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া বা মানসিক চাপের কারণে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্তি, অবসাদ বা শক্তির ঘাটতি অনুভূত হয়, তাহলে এর পেছনে শরীরের গভীর কোনো কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে কোষীয় ক্লান্তি (Cellular Fatigue)। এ অবস্থায় শরীরের কোষগুলো দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদন করতে পারে না।

কীভাবে হয় কোষীয় ক্লান্তি

শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদনের কাজ করে। এ কারণেই একে কোষের ‘শক্তিঘর’ বলা হয়। কোনো কারণে মাইটোকন্ড্রিয়া ঠিকভাবে কাজ না করলে কোষে শক্তি উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে পুরো শরীরে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অনিদ্রা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বয়স বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

কোষীয় ক্লান্তির শুরুতে লক্ষণগুলো খুব একটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। তবে ধীরে ধীরে—

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা
স্বাভাবিক কাজেও দ্রুত অবসাদ অনুভব করা
শরীরের শক্তি কমে যাওয়া
অসুস্থতা বা পরিশ্রমের পর ধীরে সুস্থ হওয়া

—এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

জীবনযাপনের প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ঘুম, কোষের পুনর্গঠন ও শক্তি উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

একইভাবে, পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও যদি ঘুমের মান ভালো না হয়, তাহলে শরীর ঠিকভাবে পুনরুদ্ধার হতে পারে না। অন্যদিকে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভাবও রক্তসঞ্চালন ও মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, ফলে ক্লান্তি আরও বাড়তে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হলে সেটিকে শুধু বয়স বা ব্যস্ততার ফল বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এর পেছনে রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, পুষ্টির ঘাটতি, ঘুমের ব্যাধি কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন ক্লান্তি না কমে, তাহলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!