লাইফস্টাইল

প্রতিদিন ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কি কানের ক্ষতি হয়?

আপডেট: আগ ১১, ২০২৬ : ০৫:৪৬ এএম
প্রতিদিন ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কি কানের ক্ষতি হয়?

যাতায়াতের সময় গান শোনা, ব্যায়াম করা, ফোনে কথা বলা কিংবা কাজের ফাঁকে—অনেকের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ হয়ে উঠেছে ইয়ারবাড। দীর্ঘ সময় কানে ইয়ারবাড রেখে চলাফেরা করলেও বিষয়টি নিয়ে অনেকে তেমন ভাবেন না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ও ঘন ঘন ইয়ারবাড ব্যবহার, বিশেষ করে বেশি শব্দে, সময়ের সঙ্গে শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে।

কীভাবে ক্ষতি করে ইয়ারবাড?

ইয়ারবাড ব্যবহারের ঝুঁকি শুধু শব্দের মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। কতক্ষণ এবং কত ঘন ঘন কানে উচ্চ শব্দ পৌঁছাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড কানের পর্দার অনেক কাছে থাকে। ফলে বেশি ভলিউমে শব্দ সরাসরি কানের ভেতরে পৌঁছাতে পারে।

দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের সংস্পর্শে থাকলে অন্তঃকর্ণের সূক্ষ্ম ‘হেয়ার সেল’ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শব্দ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব কোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এগুলো সাধারণত পুনরুজ্জীবিত হয় না।

আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইয়ারবাড ব্যবহার করলে, এমনকি মাঝারি ভলিউমেও, একবার ব্যবহারের পর কান পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ নাও পেতে পারে। কানে ঠিকমতো না বসা ইয়ারবাডের ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। বাইরে থেকে আসা শব্দ কম শোনার জন্য ব্যবহারকারী তখন ভলিউম আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা শ্রবণশক্তির জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।

দীর্ঘদিন ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে কানে অতিরিক্ত খৈল জমার সমস্যাও হতে পারে। এতে কান বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি বা সাময়িকভাবে কম শোনার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

‘কিউরিয়াস’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় ইয়ারফোন ও হেডফোন ব্যবহারের সঙ্গে শব্দজনিত শ্রবণশক্তি হ্রাসের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বের ২৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ারে ব্যবহৃত শব্দের মাত্রা ৭৮ থেকে ১৩৬ ডেসিবেল পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘ সময় এ ধরনের উচ্চ শব্দের সংস্পর্শ শ্রবণশক্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন দুই ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ইয়ারফোন ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের হার কম ব্যবহারকারীদের তুলনায় বেশি ছিল। অন্য একটি গবেষণায় দেখা যায়, কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে হেডফোনে উচ্চ শব্দ শোনায় অভ্যস্ত কিশোর-কিশোরীদের শ্রবণ সমস্যার ঝুঁকি চার গুণের বেশি হতে পারে।

দিনে কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করা নিরাপদ?

সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা কঠিন। কারণ শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব নির্ভর করে শব্দের মাত্রা, ব্যবহারের সময় এবং কত ঘন ঘন ইয়ারবাড ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর।

শ্রবণস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে ‘৬০/৬০ নিয়ম’ অনুসরণের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, ইয়ারবাডের ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা এবং একটানা প্রায় ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা। এরপর কিছু সময়ের জন্য কানকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

সারাদিন একটানা ইয়ারবাড ব্যবহার না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দৈনিক মোট ব্যবহারের সময়ও সীমিত রাখা উচিত।

২০২৫ সালে ‘জার্নাল অব অডিওলজি অ্যান্ড অটোলজি’তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একটানা এক ঘণ্টার বেশি সময় ইয়ারফোন ব্যবহার করেন, তাঁদের মধ্যে ইয়ারফোন-সম্পর্কিত কানের সংক্রমণের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

তাই ইয়ারবাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু শব্দের মাত্রা নয়, ব্যবহারের সময় ও বিরতির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কানে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ভোঁ ভোঁ শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা শুনতে অসুবিধা হলে ইয়ারবাডের ব্যবহার কমিয়ে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!