লাইফস্টাইল

আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেও কেন ঘাটতি পূরণ হয় না

আপডেট: সেপ্টে ১৫, ২০২৬ : ০৬:১০ এএম
আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেও কেন ঘাটতি পূরণ হয় না

শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণে আয়রনসমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু এসব খাবার খেলেই সব সময় ঘাটতি পূরণ হয় না। খাবার থেকে শরীর কতটা আয়রন শোষণ করতে পারছে, কী পরিমাণ আয়রন শরীর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং দৈনন্দিন চাহিদা কতটা—এসব বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত।

হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকার একটি প্রোটিন, যা সারা শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে। শরীরে আয়রনের মজুত খুব কমে গেলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এতে ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা ও বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

শরীর পর্যাপ্ত আয়রন শোষণ না করলে

আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেলেই তার সবটুকু শরীরে শোষিত হয় না। মাংস ও মাছে থাকা হিম আয়রন সাধারণত উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা নন-হিম আয়রনের তুলনায় সহজে শোষিত হয়। ডাল, শিম, বাদাম, বীজ ও শাকসবজিতে মূলত নন-হিম আয়রন থাকে।

চা ও কফিতে থাকা কিছু যৌগ আয়রন শোষণে বাধা দিতে পারে। একইভাবে আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করলেও শোষণ কমতে পারে। অন্যদিকে লেবুজাতীয় ফল, টমেটো ও মরিচের মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার নন-হিম আয়রন শোষণে সহায়তা করতে পারে।

রক্তক্ষরণ হলেও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে

আয়রনের ঘাটতির অন্যতম কারণ রক্তক্ষরণ। যেসব নারীর নিয়মিত মাসিক হয়, তাঁদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরে আয়রনের মজুত ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

মাসিক সাত দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া, ঘন ঘন স্যানিটারি প্যাড পরিবর্তনের প্রয়োজন হওয়া বা বড় আকারের রক্তের জমাট বের হওয়ার মতো বিষয় থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

পাচনতন্ত্রে রক্তক্ষরণ থেকেও আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। আলসার, পাচনতন্ত্রের প্রদাহ, অর্শ এবং কিছু প্রদাহরোধী ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবহার এর কারণ হতে পারে।

অন্ত্রের সমস্যায় শোষণ কমতে পারে

সিলিয়াক ডিজিজের মতো কিছু রোগ ক্ষুদ্রান্ত্রের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা কমে যায় এবং আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের অন্যান্য রোগ ও কিছু ধরনের পাকস্থলীর অস্ত্রোপচারও আয়রন শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শরীরে আয়রনের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে

কখনো খাবারে আয়রনের পরিমাণ কম নয়, বরং শরীরের চাহিদা বেড়ে যাওয়াই ঘাটতির কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর বাড়তি চাহিদার কারণে বেশি আয়রন প্রয়োজন হয়। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দ্রুত বৃদ্ধির সময়ও আয়রনের চাহিদা বেড়ে যায়।

এ সময় স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস থেকে পাওয়া আয়রন শরীরের বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

খাবারে আয়রন থাকলেও শোষিত পরিমাণ কম হতে পারে

কোনো খাবারকে আয়রনসমৃদ্ধ বলা হলেও শরীর তার সবটুকু আয়রন ব্যবহার করতে পারে না। বিশেষ করে উদ্ভিদজাত খাবারের নন-হিম আয়রনের শোষণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম এবং বিভিন্ন খাবারের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন হতে পারে।

তাই নিয়মিত ডাল, শিম, আয়রনসমৃদ্ধ শস্য, বাদাম, বীজ ও শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আয়রনের প্রয়োজনীয় পরিমাণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্য কোনো স্বাস্থ্যসমস্যাও কারণ হতে পারে

দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, কিডনি রোগসহ কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।

তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরও আয়রনের মাত্রা কম থাকলে শুধু খাবারের ঘাটতিকে দায়ী না করে এর অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!