মিষ্টি খাবার ও পানীয় অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে। ছুটির দিনের আয়োজন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিদিনের খাবার—বিভিন্নভাবে খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয় চিনি। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণের প্রভাব শুধু দাঁতের ক্ষয় বা ওজন বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চিনি খেলে স্থূলতা ও বিপাকীয় সমস্যাসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি স্থূলতার মাধ্যমে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তবে চিনির সঙ্গে ক্যানসারের সরাসরি কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি সরবরাহ করে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে অতিরিক্ত শক্তি চর্বি হিসেবে জমা হয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে স্থূলতা।
স্থূলতা যেভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শারীরিক ওজন অন্তত ১৩ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে মেনোপজ-পরবর্তী স্তন ক্যানসার, কোলোরেক্টাল, অগ্ন্যাশয়, যকৃৎ, কিডনি ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার।
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমলে দীর্ঘস্থায়ী মৃদু প্রদাহ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইনসুলিন, ইনসুলিনের মতো বৃদ্ধি-উদ্দীপক উপাদান এবং কিছু যৌন হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এসব জৈবিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি উৎসাহিত করতে পারে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে স্থূলতা থাকলেই যে কারও ক্যানসার হবে, এমন নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কয়েকটি পরিবর্তনযোগ্য কারণের একটি।
চিনি বাদ দিলেই কি ক্যানসার কোষ ধ্বংস হয়?
একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবার থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যানসার কোষ শক্তির অভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ ক্যানসার কোষ সাধারণ কোষের তুলনায় বেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করে।
তবে এ ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। খাদ্যতালিকা থেকে চিনি বাদ দিলেই ক্যানসারের টিউমার ছোট হয়ে যায় না। একইভাবে শুধু শর্করা বাদ দিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করাও সম্ভব নয়। তাই ক্যানসারের চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি।
চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে কতটা সতর্কতা প্রয়োজন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম মুক্ত চিনি থেকে আসা উচিত। তবে তা ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পারলে স্বাস্থ্যের জন্য আরও বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি ও তাজা ফল বেছে নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করা জরুরি।
শুধু খাদ্যাভ্যাস নয়, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্থূলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!