জীবনধারা

গর্ভাবস্থায় যে ৫টি ভুল একেবারেই করা উচিত নয়

আপডেট: জানু ২০, ২০২৬ : ০৫:২৮ এএম ১০৩
গর্ভাবস্থায় যে ৫টি ভুল একেবারেই করা উচিত নয়

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এই সময়ের সিদ্ধান্ত ও অভ্যাস সরাসরি প্রভাব ফেলে মা ও অনাগত সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপর। সচেতন থাকার চেষ্টা সত্ত্বেও ভুল তথ্য, সামাজিক চাপ কিংবা অযথা ভয় থেকে অনেক সময় কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থায় কিছু বিষয় এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

১. প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্য পরীক্ষা উপেক্ষা করা

গর্ভাবস্থার শুরু ও শেষের দিকে নিয়মিত চেকআপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলট্রাসনোগ্রাম, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা না করালে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা সময়মতো ধরা পড়ে না। এসব জটিলতা আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

২. পুষ্টিকে গুরুত্ব না দেওয়া বা যাচাইহীন ডায়েট অনুসরণ

গর্ভাবস্থা মানে বেশি খাওয়া নয়, বরং সঠিক খাবার খাওয়া। ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই খাবার কম খান কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা ডায়েট ট্রেন্ড অনুসরণ করেন। এতে রক্তস্বল্পতা, শিশুর কম ওজন বা ভ্রূণের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। চিকিৎসকেরা সুষম খাদ্যের ওপর জোর দিচ্ছেন—যেখানে থাকবে প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফলিক অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন।

৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বা ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণ

গর্ভাবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া একটি বড় ঝুঁকি। অনেক সাধারণ ব্যথানাশক, ঠান্ডার ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ মনে হলেও ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিছু ওষুধ প্লাসেন্টা অতিক্রম করে শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

৪. শারীরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা

অনেকেই মনে করেন, গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ বিশ্রামই সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু চিকিৎসাগত কোনো বাধা না থাকলে হালকা ব্যায়াম উপকারী। হাঁটা, প্রসবপূর্ব যোগব্যায়াম বা হালকা স্ট্রেচিং রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, পিঠব্যথা কমায় এবং প্রসবের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে। একেবারে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন করলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে।

৫. মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা

গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা ঘুমের সমস্যা অনেক সময় স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং মা ও শিশুর সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মন খারাপ, অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগ হলে তা গোপন না রেখে চিকিৎসক বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শই সুস্থ গর্ভাবস্থার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে চললে মা ও শিশু—দুজনেরই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!