মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলাকে আধুনিক কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মঙ্গলবার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, জুড়ী এলাকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং এখানে লাউ, তরমুজ, লেবু ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে এবং মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে উপযোগী ফসল চাষে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি সুবিধাও দেওয়া হবে।
তিনি জানান, জুড়ীকে কেন্দ্র করে একটি ‘কৃষকের হাট’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য বিপণনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন।
বিদেশে কৃষিশ্রমিকের চাহিদার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে জুড়ীতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেখানে কৃষি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইংরেজি, জাপানিসহ বিভিন্ন ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা থাকবে, যাতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে জুড়ীর কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা।
অনুষ্ঠানে কৃষক, উপকারভোগী এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!