জাতীয়

পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি

আপডেট: এপ্রি ২১, ২০২৬ : ০৪:৫৩ এএম
পুলিশের ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল: আইজিপি

পুলিশ বাহিনীর ৯৯ শতাংশ সদস্যই সৎ ও দায়িত্বশীল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, অল্প কিছু অনিয়ম যেন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না করে, সে জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করতে হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংস্থাটির জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬ সময়ের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হলেও সম্মিলিত উদ্যোগে তা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

একটি সফল জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যরা নতুন আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন এবং জনগণের প্রশংসা পেয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন আইজিপি। তিনি বলেন, অপরাধ তদন্তে সিআইডি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং এর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

তদন্ত কার্যক্রমের গতি ও মান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে আইজিপি বলেন, সময়মতো মামলা নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে আরও পেশাদার ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি ও তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখতে হবে এবং মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

পুলিশ বাহিনীর নৈতিকতা ও সততা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে জনগণের আস্থা ও সম্মান আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দুই দিনের এই সম্মেলনে বিভিন্ন ইউনিট তাদের কার্যক্রম, চ্যালেঞ্জ ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের কৃতিত্বপূর্ণ ও সাহসী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, আর জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!