বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ইউজিসির বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর প্রতিটি স্তরে অপ্রয়োজনীয় বা বাহুল্য খরচ কমাতে হবে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তিনি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও সতর্ক ও মিতব্যয়ী হওয়ার ওপর জোর দেন।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কপিরাইট ভবনে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ এবং ‘ইম্প্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন (আইসিএসইটিইপি)’ প্রকল্প নিয়ে পৃথক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া, হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান এবং আইসিএসইটিইপি প্রকল্পের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ড. মামুন আহমেদ বলেন, জাতীয় স্বার্থে জ্বালানি ও পরিবহন খাতে ব্যয় সাশ্রয় করতে হবে। প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের সময় অপ্রয়োজনীয় খাত চিহ্নিত করে তা বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়গুলো ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি কৃচ্ছতাসাধনের মাধ্যমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করার পরামর্শ দেন।
গবেষণা কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উপ-গবেষণা প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন ও তদারকির জন্য দক্ষ ও নীতিবান শিক্ষক-গবেষকদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠনের সুপারিশ করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। এ ছাড়া গবেষকদের সাক্ষাৎকার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
প্রকল্প দুটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দিয়ে ড. মামুন আহমেদ জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পগুলো অর্থবহভাবে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে প্রায় ৪ হাজার ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি হিট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিএসইটিইপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!