মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। আগামী ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন, আহরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাকালে হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মাছ শিকার বন্ধ থাকলেও ২৫ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ঘাটে আহরিত মাছ অবতরণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, আগামী ২ মে থেকে হ্রদে মাছের পোনা অবমুক্ত কার্যক্রম শুরু হবে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নৌ-পুলিশ ও বিএফডিসির সমন্বয়ে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলে পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে প্রতি পরিবারে ২০ কেজি হারে দুই মাসে মোট ৪০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা বিতরণের জন্য পরিবহন ব্যয় বাবদ প্রতি পরিবারে ৩৫০ টাকা হারে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৩০ টাকা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকালে জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
No comments yet. Be the first to comment!