সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মেগা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
প্রকল্পগুলো হলো—পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুলেন সড়ক টানেল এবং ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। রোববার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া এসব প্রকল্পে বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে দুদক, যা এখনো চলমান রয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। পরবর্তীতে চার দফায় এই ব্যয় বাড়ানো হয়। একইভাবে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা দুই দফায় বৃদ্ধি পায়।
অন্যদিকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা এক দফায় বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখছে দুদক। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা হতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!