জাতীয়

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, বেড়েছে চার্জার ফ্যান-আইপিএসের দাম

আপডেট: এপ্রি ২৭, ২০২৬ : ০৬:২৪ এএম
তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, বেড়েছে চার্জার ফ্যান-আইপিএসের দাম

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চট্টগ্রামে বাড়ছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নগর ও গ্রামাঞ্চলের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বাজারে বেড়েছে চার্জার ফ্যান, আইপিএস ও সোলার প্যানেলের চাহিদা। একই সঙ্গে এসব পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী।

স্থানীয়রা বলছেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় দিনে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকায় বাসাবাড়িতে গরমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুম ব্যাহত হচ্ছে, দিনের স্বাভাবিক কাজেও পড়ছে বড় প্রভাব।

বিকল্প বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে মানুষ

বিদ্যুৎ সংকট থেকে স্বস্তি পেতে এখন অনেকে চার্জার ফ্যান, ছোট সোলার সেট ও আইপিএসের দিকে ঝুঁকছেন। চট্টগ্রামের ইলেকট্রনিকস দোকানগুলোতে এসব পণ্যের বিক্রি কয়েক দিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, “চার্জার ফ্যানের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী স্টক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।”

চকবাজার এলাকার আরেক দোকানি বলেন, “আইপিএস ও সোলার সেটের চাহিদাও অনেক বেড়েছে। আগে যেগুলো মাসে বিক্রি হতো, এখন কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

বেড়েছে দামও

চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব পণ্যের দামও বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট-বড় ফ্যানের দাম ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আইপিএসের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বর্তমানে বাজারে আকারভেদে চার্জার ফ্যান ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

লোডশেডিং ও গরমে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

একজন বাসিন্দা বলেন, “বাসায় ছোট বাচ্চা আছে, গরমে থাকা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে চার্জার ফ্যান কিনতে হয়েছে।”

আরেক বাসিন্দা জানান, “রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আইপিএস কিনেছি, এতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।”

গৃহিণীরা বলছেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে শিশুদের নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ সোলার ব্যবহারের কথাও ভাবছেন।

বিদ্যুৎ খাতে চাপ

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামের অন্তত ৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রামে বর্তমানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৪৮০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট হলেও গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানা গেছে।

দ্রুত সমাধানের দাবি

তীব্র গরমে লোডশেডিং বাড়তে থাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!