রাষ্ট্র কাঠামোয় বিদ্যমান ‘লুটপাটের অর্থনীতি’ ও ‘ক্রনি ক্যাপিটালিজম’ বহাল রেখে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ সাকি।
সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সাকি বলেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা দেশকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই কাঠামো বহাল রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তন ও জাতীয় পুনর্গঠন ছাড়া বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া রাজনৈতিক রূপান্তর সফল হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে সাকি বলেন, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক করা অনুচিত। প্রতিটি শহীদই একটি জীবন ও স্বপ্নের প্রতীক। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশ নেয়, যা ইতিহাসে যথাযথভাবে থাকা উচিত।
অর্থনৈতিক সংকটের জন্য ‘লুটেরা পুঁজিবাদ’কে দায়ী করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার, সম্পদ লুট এবং অর্থ পাচার সমাজকে স্থবির করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক নীতি, সামাজিক সুরক্ষা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার দিলেই দেশ একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে এগোতে পারে।
সমাজে ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাকি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিভাজনমূলক প্রবণতা বন্ধ করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!