প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এই রুটে যাতায়াতের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
শনিবার (২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা ও অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। কিছু জায়গায় জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান বাধা দূর করে দ্রুতই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সড়কের পাশাপাশি রেল যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি রেলপথ সম্প্রসারণ জরুরি। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।
তিনি জানান, সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সময় ও খরচ দুটোই কমে আসবে। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি জানান, সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী। তারা প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সেবা বিষয়ে কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি ১,২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
সিলেটের শিল্পায়ন ও আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু সিলেট নয়, দেশের অনেক শহরের সমস্যা। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স স্বল্প সময় হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি ও কার্ডভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
সুধী সমাবেশে বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং পরে চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর পাড় উন্নয়ন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!