মঈন মাহমুদ
২ মে ২০২৬ (শনিবার) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে পিআইবির সেমিনার কক্ষে ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য: কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর হেড অফ অফিস ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো যে একটি অপরাধ, তা অনেক সময় আমরা উপলব্ধিই করি না। কোনো না কোনোভাবে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে সমালোচনা ও গালি ভিন্ন বিষয়; সেগুলো ফেক নিউজ নয়। ফেক নিউজকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।”
মূল প্রবন্ধে মামুন অর রশীদ ফেক নিউজের বিস্তার, প্রভাব ও ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফেক নিউজ প্রতিরোধে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও পেশাদার ফ্যাক্টচেকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ অতিথি ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন। স্বাগত বক্তব্যে ফারুক ওয়াসিফ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করে এক ধরনের ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ তৈরি করছে। সীমিত সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে মানুষ সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের বদলে নিজেদের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকে বেশি গ্রহণ করছে। ফলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।”
সেমিনারে অধ্যাপক আ-আল মামুন ও কাজী মামুন হায়দারের লিখিত পিআইবির প্রকাশনা ‘বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!