জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রথম অধিবেশনে বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা না করে নিজেদের মতো সংসদ পরিচালনা করেছে।
রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক এই কনভেনশনের আয়োজন করে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সংগ্রাম করছে। মুক্তিযুদ্ধের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও তা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি বহুদলীয় গণতন্ত্রের কথা বললেও নির্বাচনের পর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
সংসদীয় সংস্কারের বিষয়ে নাহিদ বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করে। এ কারণে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে এবং নিয়োগব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্বের পরিবর্তে সর্বদলীয় ঐকমত্য নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণও প্রয়োজন। তবে এসব সংস্কারের মাধ্যমেই একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান টেকসই হবে না। বিএনপি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন করতে চাইলে সেটিও স্থায়ী হবে না এবং যেকোনো সময় তা বাতিল হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, বাহাত্তরের সংবিধানের ধারাবাহিকতার নামে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ ফিরে আসার সুযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদে বিভিন্ন বিষয়ে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যে দল ক্ষমতায় আসবে, তারা নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করবে—এমন অবস্থায় সনদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সে কারণেই গণভোটের প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!