জাতীয়

কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেট: মে ০৪, ২০২৬ : ০৫:৫৫ এএম
কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সুযোগ থাকবে না। কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করা হবে।

রোববার নেত্রকোণা শহরের মোক্তারপাড়ার পাবলিক হলে ২০২৬ মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার কারণে কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আগেভাগে শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ধান সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আব্দুল বারী বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে পোশাক সরবরাহের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে।

ধান সংগ্রহ অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কৃষকেরা যত পরিমাণ ধান দিতে পারবেন, সরকার তত পরিমাণই সংগ্রহ করবে। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সেটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”

হাওর অঞ্চলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জ ও সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম বন্যার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ধান সংগ্রহের নির্ধারিত সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি কমাতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।

সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি তদারকি করছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান।

জেলা খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হবে। জেলার ১০ উপজেলার ৭৭ জন ডিলারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!