জাতীয়

প্রশাসনকে জনমুখী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: মে ০৭, ২০২৬ : ০৪:৪৫ এএম
প্রশাসনকে জনমুখী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রশাসনকে জনমুখী ও মানবিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন সম্মান, স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে দ্রুত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরই।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আইন গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বৃদ্ধ, অসুস্থ বা সাধারণ মানুষ সরকারি অফিসে গেলে তাঁর সঙ্গে আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, একজন সেবাগ্রহীতা যখন সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই পুরো সরকারব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। কোনো নাগরিক যদি সরকারি দপ্তরে গিয়ে আন্তরিক ব্যবহার পান, তাহলে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি তাঁর আস্থা বাড়ে। আর হয়রানির শিকার হলে সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সেই বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। মাঠপর্যায়ে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার যে ইশতেহার বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে, তা এখন জনগণেরই ইশতেহার। এই কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশে নির্ভর করছে জনপ্রশাসনের দক্ষতা ও আন্তরিকতার ওপর।

তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে এই জনসংখ্যাই দেশের বড় সম্পদে পরিণত হবে। ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার আইনগত ও মানবিক যেকোনো উদ্যোগে প্রশাসনকে সহায়তা করবে বলেও বক্তব্যে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!