বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। দলটি বলেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে জনজীবনে আরও চাপ তৈরি হবে।
গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। এ প্রস্তাব পর্যালোচনায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ইতিমধ্যে কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।
বাসদের দাবি, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগ অযৌক্তিক এবং জনজীবনের জন্য ক্ষতিকর। দলটি বলেছে, সম্প্রতি ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর ফলে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম ইতিমধ্যে বেড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবী পরিবারকে আরও সংকটে ফেলবে।
বিবৃতিতে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনাকে চলমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বাসদ অভিযোগ করে, অতীতে বিশেষ দায়মুক্তি আইনের আওতায় দরপত্র ছাড়াই রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
দলটির ভাষ্য, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ জনগণের ওপর চাপানো গ্রহণযোগ্য নয়।
বাসদ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল, বিদ্যুৎ খাতে সিস্টেম লস ও চুরি বন্ধ, ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বন্ধ এবং আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি গণশুনানিতে স্বচ্ছতা ও ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!